খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ১ মাঘ, ১৪৩২

গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশ ঘিরে হামলা-সংঘর্ষে নিহত ৩

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ জুলাই, ২০২৫, ৯:৫৫ অপরাহ্ণ
গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশ ঘিরে হামলা-সংঘর্ষে নিহত ৩

গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশ ঘিরে হামলা–সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। হাসপাতাল ও পরিবার সূত্র প্রথম আলোকে এ কথা জানিয়েছে।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন গোপালগঞ্জ শহরের উদয়ন রোডের বাসিন্দা সন্তোষ সাহার ছেলে দীপ্ত সাহা (২৫), কোটালীপাড়ার রমজান কাজী (১৮) ও টুঙ্গীপাড়ার সোহেল মোল্লা (৪১)।

আজ বুধবার বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক জীবিতেষ বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, বিকেলে তিনজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তাঁরা গুলিবিদ্ধ ছিলেন।

প্রথম আলো স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নিহত দুজনের পরিচয় নিশ্চিত হয়। পরে রাত সাড়ে সাতটার দিকে অপরজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয় প্রথম আলো।

হাসপাতালের কর্মকর্তা জীবিতেষ বিশ্বাস বলেন, আরও ৯ জনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তাঁদের অস্ত্রোপচার চলছে।

মৃত্যুর তথ্য জানতে গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মিজানুর রহমানের মুঠোফোনে কল দিলে তিনি ধরেননি।

তথ্য জানতে গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মুহম্মদ কামরুজ্জামান ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. গোলাম কবিরকে কল দিলে তাঁরা কথা বলতে রাজি হননি।

নিহত দীপ্ত সাহার চাচা হাসপাতালে প্রথম আলোকে বলেন, দীপ্ত দুপুরের খাবার খেয়ে তাঁর দোকানে যাচ্ছিলেন। শহরের চৌরঙ্গীতে তাঁর পেটে গুলি লাগে।

নিহত রমজান কাজীর বাবা কামরুল কাজী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার ছেলেটাকে মেরে ফেলছে। আমার ছেলে তো কোনো দোষ করেনি। আমি আমার সন্তানকে কোথায় পাব?’

নিহত সোহেল মোল্লা গোপালগঞ্জ শহরের চৌরঙ্গী এলাকার কেরামত আলী প্লাজায় মোবাইল ব্যবসায়ী ছিলেন। তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করেছেন একই মার্কেটের দোকানদার জনি খান।

এর আগে গোপালগঞ্জের পৌর পার্কে এনসিপির সমাবেশ শেষে হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন বলেন, সমাবেশ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আওয়ামী লীগের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে এনসিপির নেতা-কর্মীদের ঘিরে হামলা চালান। এ সময় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা সাউন্ড গ্রেনেড ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। এনসিপির নেতা-কর্মীরা অন্যদিক দিয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

হামলার ঘটনার পর এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা এই হামলা চালিয়েছেন। এ সময় পুলিশ-সেনাবাহিনী নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। তাদের (এনসিপি) বলা হয়েছিল, সবকিছু ঠিক আছে। কিন্তু তাঁরা সমাবেশস্থলে এসে দেখেন, পরিস্থিতি ঠিক নেই।

এর আগে বেলা পৌনে ২টার দিকে সমাবেশ শুরুর আগে ২০০ থেকে ৩০০ লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান দিয়ে এনসিপির সমাবেশস্থলে যান। সে সময় মঞ্চের আশপাশে থাকা পুলিশ সদস্যরা সেখান থেকে দ্রুত আদালত চত্বরে ঢুকে পড়েন। একই সময়ে মঞ্চে ও মঞ্চের সামনে থাকা এনসিপির নেতা-কর্মীরাও দৌড়ে সরে যান। যাঁরা হামলা চালান, তাঁরা সবাই আওয়ামী লীগের সমর্থক বলে এনসিপির নেতা-কর্মীরা অভিযোগ করেছিলেন। ওই সময় হামলাকারীরা মঞ্চের চেয়ার ভাঙচুর করেন, ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন।

একপর্যায়ে জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে যান। এনসিপির নেতা-কর্মী ও পুলিশ এক হয়ে ধাওয়া দিলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। বেলা ২টা ৫ মিনিটে সমাবেশস্থলে পৌঁছান এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। সেখানে সমাবেশ করে এনসিপি। সমাবেশ শেষে এনসিপির নেতা-কর্মীদের ঘিরে হামলার ঘটনা ঘটে।

এর আগে এনসিপির কর্মসূচি ঘিরে গোপালগঞ্জে পুলিশের গাড়িতে আগুন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গোপালগঞ্জ-টেকেরহাট সড়কের সদর উপজেলার কংশুরে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশের গাড়ি পোড়ানোর একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যায়, গাড়ি পোড়ানোর সময় সেখানে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের গোপালগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক মো. পিয়ালকে লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে আছেন। অন্য আরেকজনকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা পিয়াল ভাইয়ের সাথে আছি।’

ক্ষেতলালে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস পালিত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১:০৮ অপরাহ্ণ
ক্ষেতলালে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস পালিত

জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস উদযাপন উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের উদ্যোগে একটি র‌্যালি বের হয়ে পৌর সদরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এসে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক সাজ্জাদ পারভেজের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা চৌধুরী। এস এম মশিউর রহমান তুহিনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ওসি (তদন্ত) এস এম কামাল হোসাইন, অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান, প্রধান শিক্ষক আজিজার রহমান, ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম ও হোসনে আরা। অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পাঁচজন অদম্য নারীর হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন অতিথিরা।

জয়পুরহাটে যাত্রীকে বেধড়ক পেটালেন রেলের বুকিং সহকারী

মামুনুর রশীদ পান্না, অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৫, ১:১৪ পূর্বাহ্ণ
জয়পুরহাটে যাত্রীকে বেধড়ক পেটালেন রেলের বুকিং সহকারী

জয়পুরহাট রেলওয়ে স্টেশনে আব্দুর রাজ্জাক আকন্দ নামে এক যাত্রীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে হেড বুকিং সহকারী মনিরুল করিম মুনের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহা ব্যবস্থাপকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ওই যাত্রী। আব্দুর রাজ্জাক আকন্দ জয়পুরহাট জেলা শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক পদে কর্মরত আছেন বলে জানা গেছে। এদিকে ঘটনাটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, যাত্রী আব্দুর রাজ্জাক পাবনা যাওয়ার জন্য দ্রুতযান এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকেট কাটতে জয়পুরহাট রেলওয়ে স্টেশনের কাউন্টারে যান। সেখানে তিনি লাইনে দাঁড়িয়ে টিকেট সংগ্রহ করতে দুইশো টাকা দেন। কাউন্টার থেকে তাকে খুচরা টাকা দিতে বলা হয়। কিন্তু আব্দুর রাজ্জাক খুচরা টাকা দিতে পারেননি। তখন হেড বুকিং সহকারী মনিরুল করিম ওই যাত্রী খুচরা টাকা আনার তাগিদ দেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে মনিরুল করিম কাউন্টার থেকে বাহিরে এসে যাত্রী আব্দুর রাজ্জাককে ধাক্কা মারেন এরপর দুজনের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়। এরপর মনিরুল করিম ওই যাত্রীকে টেনে-হেচড়ে স্টেশন মাস্টারের রুমে পরে কাউন্টার কক্ষের ভেতরে নিয়ে বিভিন্নভাবে কিল, ঘুষি মেরে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এতে ওই যাত্রীর শার্ট ছিঁড়ে গেলে রেলওয়ের দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা কর্মীরা তাকে স্টেশন মাস্টারের রুমে নিয়ে আসেন। সেখানে মনিরুল করিম মুন ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান।

যাত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, স্টেশনে টিকিট কাটাকে কেন্দ্র করে স্টেশনের হেড বুকিং সহকারী মনিরুল করিম মুন আমাকে বিভিন্নভাবে লাঞ্ছিত করেছে। তারা এক লাইনে টিকিট না দিয়ে এক লাইন থেকে আরেক লাইনে ঘুরাঘুরি করাচ্ছিল। কাউন্টারের ভেতর থেকে এসে আমাকে টেনে অফিসের ঘরে নিয়ে গিয়ে বিভিন্নভাবে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন। শার্টও ছিড়ে গেছে। পরে সাংবাদিকরা আসলে তিনি ভুল করেছেন বলে ক্ষমা চান। সে স্থানীয় হওয়ায় দাম্ভিকতার সাথে ক্ষমতায় দেখায় যে, সে মানুষকে মানুষই মনে করেনা। তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

 

ইদগড় ইউনিয়ন ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হলেন আশরাফুল হক আদনান।

অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৫, ১১:১৪ অপরাহ্ণ
ইদগড় ইউনিয়ন ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হলেন আশরাফুল হক আদনান।

 

কক্সবাজারের ঈদগড় ইউনিয়ন ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ছাত্রনেতা আশরাফুল হক আদনান। সম্প্রতি উপজেলা ছাত্রদলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাকে এই দায়িত্ব প্রদান করা হয়।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এ পদে আশরাফুল হক আদনানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন দায়িত্ব পেয়ে আশরাফুল হক আদনান সংগঠনের প্রতি তাঁর দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।

তিনি বলেন, “ছাত্রদলের আদর্শ ও নেতৃত্বের প্রতি অনুগত থেকে ঈদগড় ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে ছাত্রদলকে আরও সুসংগঠিত করবো।”

দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ নবনিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদককে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।